কুড়িগ্রামে বাড়ছে সব নদনদীর পানি, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত
আপডেট সময় :
২০২৬-০৬-২৪ ১৩:৪৪:৩৮
কুড়িগ্রামে বাড়ছে সব নদনদীর পানি, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবা ফটো উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রবা ফটো কুড়িগ্রামে অব্যাহত উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বর্ষণে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব প্রধান নদনদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নদীগুলোর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তিস্তা ও ধরলার পানি সতর্কজনকভাবে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এর ফলে জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে এবং নদী তীরবর্তী অন্তত ৩৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী জনপদে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ছিল ২৪.৬০ মিটার যা বিপৎসীমা ২৬.০৫ মিটার থেকে ১.৪৫ মিটার নিচে অবস্থান করছে। একই নদীর তালুক সিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি ছিল ২৯.৯৩ মিটারÑ যা বিপৎসীমা ৩০.৮৭ মিটার থেকে ০.৯৪ মিটার নিচে রয়েছে। তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ২৮.৯৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এটি বিপৎসীমা ২৯.৩১ মিটার থেকে মাত্র ০.৩৬ মিটার নিচে রয়েছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি ছিল ২৮.৯৭ মিটার যা বিপৎসীমা ২৯.৬০ মিটার থেকে ০.৬৩ মিটার নিচে অবস্থান করছে। অপরদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে পানি ২৪.৩৯ মিটারÑ যা বিপৎসীমার ১.৬৬ মিটার নিচে এবং চিলমারী পয়েন্টে পানি ২১.৭৬ মিটারÑ যা বিপৎসীমার ১.৪৯ মিটার নিচে রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন চর ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। তলিয়ে গেছে চীনাবাদাম, পাট, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক কৃষক অপরিপক্ব ফসল দ্রুত ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদিকে নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে।
বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। তারা দ্রুত ভাঙনরোধী ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ প্রস্তুতির দাবি জানিয়েছেন। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন যে, দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের উজান অঞ্চলে (মেঘালয় ও আসাম) ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী ৩ থেকে ৫ দিন নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স